সাঁত্রাগাছিতে ফের করোনায় মৃতের দেহ বাড়িতে পড়ে রইল বেশ কয়েক ঘন্টা - The News Lion

সাঁত্রাগাছিতে ফের করোনায় মৃতের দেহ বাড়িতে পড়ে রইল বেশ কয়েক ঘন্টা




দি নিউজ লায়ন ; রাত থেকে টানা কয়েক ঘন্টা ধরে ঘরের মেঝেতেই পড়ে রইল কোভিডে মৃত ব্যক্তির দেহ। এমনই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে হাওড়ায়। পরে মিডিয়া মারফত খবর জানাজানি হতে এবং এলাকার মানুষের তৎপরতায় উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই ঘটনায় হাওড়ার জগাছা থানা এলাকার রামরাজাতলা সাঁত্রাগাছি ষষ্ঠীতলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়িতেই মারা যান গোপাল চক্রবর্তী ( ৬৪ ) নামের ওই ব্যক্তি। বাড়িতে তখন থেকেই পড়ে থাকে তাঁর দেহ। 


পরিবারের সদস্যরা জগাছা থানা থেকে শুরু করে হাওড়া পুরসভা সর্বত্র যোগাযোগ শুরু করেন। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার সকাল পেরিয়ে গেলেও প্রথমে কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতালে বেডের অভাবে রোগী ভর্তি হতে পারছেন না খবর পেয়ে দক্ষিণ হাওড়া এরিয়া কমিটির রেড ভলেন্টিয়ারের কর্মীরা এগিয়ে এসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁরাই বাড়িতে এসে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দেন। বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করে রাখেন। কিন্তু তার আগেই মঙ্গলবার রাতে গোপালবাবুর মৃত্যু হয়। 


এদিকে, দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে করোনা রোগীর মৃতদেহ পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারাও। শেষপর্যন্ত প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়ে যাওয়া হয় করোনায় মৃতের দেহ। মৃতের ছেলে তমাল চক্রবর্তী বলেন, রাতেই আমি খবর পাই। সেই খবর পেয়ে তখনই থানাতে খবর দিই। তখন থানা থেকে দেখার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারপর সাড়ে ১০টায় বাড়ি এসে আবার থানায় খবর নিলে থানা থেকে আবার ডিটেলস নেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হতে সকলে ততপর হয়। 


পরিবারের এক সদস্যা বলেন, রাতে উনি মারা যান। দশ দিন আগে ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর জ্বর এসেছিল। কিন্তু কমে গিয়েছিল। পরে ডাক্তার দেখানোর পর টেস্ট করে জানা যায় কিডনির সমস্যা। এর পাশাপাশি করোনাও ধরা পড়েছিল। করোনা ধরা পড়ার পর কোথাও কোনও বেড পাওয়া যাচ্ছিল না। কাল শ্বাসকষ্ট হওয়ার পর হাসপাতালে যোগাযোগ করলে কোথাও বেড পাওয়া যায়নি। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং এনআরএসে  বেড পাওয়া যায়। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স এলে তাঁরাই জানান মারা গিয়েছে।


 অন্যদিকে, রেড ভলেন্টিয়ার্সের পক্ষ থেকে সোমনাথ গৌতম জানান, আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সবরকম সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। দক্ষিণ হাওড়া এরিয়া কমিটিতে রেড ভলেন্টিয়ার হিসেবে আমরা কাজ করছি। যখনই এনাদের বাড়ি থেকে খবর যায় আমরা আসি। ২৩ এপ্রিল কোভিড আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে, নার্সিংহোমে ভর্তির চেষ্টা করা হয়েছে।


 কিন্তু কোথাও কিছু হয়নি। নিজেরা অক্সিজেন দিয়ে ব্যবস্থা করেছি। যতটা পেরেছি সাহায্য করেছি। গতকাল শ্বাসকষ্ট হওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। অনেক জায়গায় চেষ্টা করেও কোনও বেড পাওয়া যায়নি।  পরে পাওয়া গেলেও নিয়ে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.